ইফতারে যেসব ভুল ওজন ও গ্যাস্ট্রিক বাড়ায়:সুস্থ থাকতে যা খাবেন
ইফতারে যেসব ভুল ওজন ও গ্যাস্ট্রিক বাড়ায় এ বিষয় সম্পর্কে আমাদের জানা প্রয়োজন। কেননা বর্তমানে আমরা ইফতারের সময় প্রায় নিজের খাদ্যাভ্যাসগুলো ভুল ভাবে গড়ে তুলি, যার ফলে আমাদের ওজন ও গ্যাস্টিক সমস্যা বাড়ে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা বিস্তারিত সবকিছু জানবো।
আসলে কোন কোন ভুলের জন্য আমাদের শরীরের ওজন ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মূলত সারাদিন না খাওয়ার ফলে যে সকল ভুল আমরা ইফতারের সময় করি বা ভুল খাবার খাই সেগুলো খাওয়ার জন্যই মূলত আমাদের ওজন ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ে।পেজ সূচিপত্রঃ ইফতারে যেসব ভুল ওজন ও গ্যাস্ট্রিক বাড়ায়:সুস্থ থাকতে যা খাবেন
- ইফতারের প্রধান ভুল বেশি ভাজাপোড়া খাবার
- ইফতারের সময় আরেকটি ভুল মিষ্টি পানীয় খাওয়া
- প্রোটিন ও সবজি না খাওয়া
- ঝাল ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খাওয়া
- একই সঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা
- ইফতারের পরেই শুয়ে পরা
- ইফতারের যে সকল খাবার খাওয়া উচিত
- ইফতারের সুস্থ থাকতে যা যা খাবেন
- ইফতারে খাবার খাওয়ার নিয়মাবলী
- শেষ কথা
ইফতারের প্রধান ভুল বেশি ভাজাপোড়া খাবার
ইফতারের প্রধান ভুল বেশি ভাজাপোড়া খাবার। আমরা অনেকেই ইফতারের সময় অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবার খায়। অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার আমাদের গ্যাস্টিকের সমস্যা বাড়ায়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই ইফতারের সময় নানাবিধ ভাজাপোড়া খেয়ে গ্যাস্ট্রিকের ও শরীরের অন্যান্য সমস্যা বৃদ্ধি করে।
ভাজাপোড়া খাবার বলতে আমরা নানা রকম তেলেভাজা জিনিস খেয়ে থাকি। যেমন- বেগুনি, যা বেসন ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা একটি জিনিস। এরপরে পিয়াজি, জিলোপি, বাদাম, বুন্দিয়া এসকল বিভিন্ন ধরনের জিনিস অতিরিক্ত তেলের ভেজানো থাকে বা তেলে ভাজা থাকে, যার কারণে এগুলো খাওয়ার সাথে সাথে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সহ অন্যান্য সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
আবার একটি জিনিস দেখা যায় বাজারে এ সকল জিনিস যারা কিনে ইফতারিতে খান, তাদের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর। আমরা প্রায়ই দেখি বাজারে যেসকল দোকানে সকল ভাজাপোড়া তৈরি করে, তারা আসলে কোনো ভালো সয়াবিন তেল দিয়ে তৈরি করে না।
বেশিরভাগ এলাকাতেই দেখা যায় যে, তারা পাম তেল দিয়ে এগুলো ভাজে আর পাম তেল আমাদের শরীরের জন্য উপকারী কোন তেল নয়। এই তেল দিয়ে ভাজার জিনিস খেলেই গ্যাস্টিকের সমস্যা বাড়ে।
এর পাশাপাশি শরীরে অন্যান্য সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
ইফতারের সময় আরেকটি ভুল মিষ্টি পানীয় খাওয়া
ইফতারের সময় আরেকটি ভুল মিষ্টি পানীয় খাওয়া। আমরা অনেককেই ইফতারের সময় অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় খেয়ে থাকি। আবার এ পানীয়টা একরকম না বিভিন্ন ধরনের পানীয়। মিষ্টি পানিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে যার ফলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেকেই আমরা এই সময় শরবত এবং বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় খেয়ে থাকি। এই কোমল পানীয় আমাদের শরীরের যখন হঠাৎ করে অতিরিক্ত বিভিন্ন ধরনের এই মিষ্টি পানীয় খাওয়া পড়ে, তখনই আমাদের শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং এটা দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের খাওয়ার ফলে অর্থাৎ যে রোজার একমাস খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি হয়।
প্রোটিন ও সবজি না খাওয়া
ইফতারের সময় আমরা অনেকেই প্রোটিন ও সবজি খায় না। শুধু কি তাই! আমরা গোটা রোজার মাসে বলি যে সবজি খেতে ভালো লাগে না এটা ওটা খেতে ভালো লাগে না, শুধু ভালো লাগে মাংস। আমরা বিশেষ করে লক্ষ্য করি যে অন্যান্য মাসের চাইতে এই রোজার মাসে আমরা মাংস বেশি খেয়ে থাকি।
অতিরিক্ত মাংস খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। আমরা যখন সবজি না খাই তখন আমাদের সবজিতে থাকা যে পরিমাণ ভিটামিন ও ফাইবার জাতীয় উপাদান আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা পায় না। আর আমরা বেশি মাংস খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি হয়।
সেহরিতে আমরা প্রায় বলি যে মাছ ভালো লাগেনা, ডিম বা অন্যান্য জিনিস খেতে ভালো লাগে না। শুধু ভালো লাগে মাংস খেতে। এই সময় দীর্ঘ একটি মাস যারা শুধুমাত্র মাংস খেয়ে সেহরি করে তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি আরো বাড়বে। যেমন যাদের উচ্চকলেস্ট্রল আছে তাদের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক ওজন বৃদ্ধির সমস্যা আরো বাড়বে।
ঝাল ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খাওয়া
রোজার মাসে আরেকটি বিশেষ যে ক্ষেত্রটি দেখা যায় সেটি হচ্ছে আমরা এই সময়ে ঝাল ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খায় এই ঝাল ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খেলে আমাদের শরীরের গ্যাস্টিকের সমস্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত ঝাল খেলে আমাদের শরীরের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ে।
আসলে কোন কোন খাবারগুলোতে আমরা ঝাল ও মসলাযুক্ত বেশি খাই এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- যে ভাজাপোড়া খাবার। ভাজাপোড়া খাবারে প্রায় কিন্তু ঝাল বেশি থাকে, তেল বেশি থাকে এবং যখন আমরা মাংস রান্না করি সে মাংস তে স্বাদের জন্য বেশি করে মসলা ও তেল বেশি ব্যবহার করি। ফলে দেখা যায় এ সকল খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের একদিক থেকে যেমন ওজন বৃদ্ধি হয় অন্যদিক থেকে গ্যাস্টিকের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা
ইফতারের সময় আমরা আরেকটি বিশেষ ভুল করে থাকি সেটি হচ্ছে সারাদিন না খেয়ে থেকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার খায়। অর্থাৎ শরবত, ভাজাপোড়া বিভিন্ন ধরনের খাবার এ সকল খাবার বা এ সকল অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার আমাদের প্রবণতা দেখা যায়। এই অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতার কারণে আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি সহ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কিন্তু বৃদ্ধি পায়।
কেন অতিরিক্ত খাবার খেলে আমাদের এ ধরনের সমস্যা হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে আমরা যখন সারাদিন না খেয়ে থাকি তখন আমাদের শরীর হঠাৎ করে এই অতিরিক্ত খাবার হজম করতে বা শরীরের প্রক্রিয়া করতে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে।
ইফতারের পরেই শুয়ে পরা
ইফতারের যেসব ভুল করি তার মধ্যে আরেকটি অন্যতম ভুল হচ্ছে আমরা অনেকেই ইফতারের পরেই শুয়ে পরি। একে তো বিভিন্ন ধরনের খাবার খায় আবার একটু হাঁটাহাঁটি না করেই শুয়ে পরি। এই শুয়ে পরার ফলে আমাদের শরীরের যে খাদ্য হজমের প্রক্রিয়া আরো জটিল হয় অর্থাৎ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে আমাদের গ্যাস্টিকের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
আমরা অনেকেই ইফতারের পর একটু হাঁটাহাঁটি বা নামাজ কালাম না পড়েই শুয়ে পরি। অনেকেই মনে করে যে সারাদিন রোজা থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরি। এই ভুলের কারণে মূলত আমাদের শরীরের ওজন ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ে।
ইফতারের যে সকল খাবার খাওয়া উচিত
ইফতারে আসলে যে সকল খাবার খাওয়া উচিত তার মধ্যে হচ্ছে আমাদেরকে নিয়মিত ভাজা পোড়া না খেয়ে হঠাৎ করে বা সপ্তাহে একা দিন অল্প একটু ভাজা খেলেন। আবার ইফতারের পর প্রোটিন যুক্ত খাবার বা সবজি খাবার যুক্ত করলেন। এ সকল খাবার খাওয়া আসলে আমাদের শরীরের জন্য উচিত।
ইফতারের পর অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। হালকা করে খেতে হবে ভাজাপোড়া অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এসকল জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে। হালকা ফলমূল ও প্রোটিন যুক্ত খাবার খেতে হবে।
ইফতারের সুস্থ থাকতে যা যা খাবেন
আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান ইফতারের সময় তাহলে আপনাকে যে সকল খাবারগুলো খাওয়া উচিত তা হচ্ছে আপনি যেকোনো ধরনের ফলমূল খেতে পারেন। কারণ ফলমূলে ভিটামিন, মিনারেল ও বিভিন্ন শক্তি উপাদান থাকে।
ফলমূলের ভেতর আপনি তরমুজ, খেজুর, আঙ্গুর, আপেল, বেদনা, কিশমিস, কমলা, পেয়ারা এগুলো খেতে পারেন। এগুলোতে রয়েছে যেমন মিনারেল তেমনি রয়েছে ভিটামিন উপাদান। এছাড়া এ সকল ফলমূলের ভেতর কমলা, পেয়ারা, আঙ্গুর এ জাতীয় ফলগুলো আয়রন শোষণ ক্ষমতা বেশি যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে।
আবার কিশমিস আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর আপনার শরীরের শক্তি সরবরাহ করে। আর আপেল আপনার হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাই ইফতারিতে সুস্থ থাকতে অল্প করে প্রতিদিন কোন না কোন ফলমূল রাখবেন।
আর খাদ্যের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি সব ধরনের মাছ রাখতে পারেন। তবে মাংস কম রাখবেন। যদি মাংস প্রতিনিয়ত রাখেন তবে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। এ কারণে শাক-সবজি ছোট মাছ, বড় মাছ সবগুলোই প্রতিনিয়ত রুটিন মাফিক খেতে পারেন, তাহলে আপনি ইফতারের পর সুস্থ থাকতে পারবেন "ইনশাআল্লাহ।"
ইফতারে খাবার খাওয়ার নিয়মাবলী
আমরা অনেকেই জানিনা ইফতারের খাওয়ার নিয়মাবলী। ইফতারের সময় আমরা সব ধরনের খাবার একসাথে খায়, আসলে এর কিছু বেসিক নিয়ম কানুন রয়েছে যেগুলো মেনে খেলে আমাদের কোন ধরনের সমস্যা হবে না।
প্রথমেই আপনাকে ইফতারিতে যে কোন ফল এবং সাধারণ পানি খেতে হবে। তবে ফলের মধ্যে খেজুর সবচাইতে উত্তম। এর পরে আপনি আপেল অথবা আঙ্গুর খেতে পারেন। এরপরে হালকা নাস্তা হিসেবে এক থেকে দুইটা রুটি খেতে পারেন।
এরপরে এক ঘন্টা অথবা দেড় ঘন্টা পর আপনি ভাত বা অন্যান্য খাবার খেতে পারেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন খাওয়াটা যেন আপনার অত্যাধিক না হয়। আপনার খাবারের শাকসবজি মাছ বা অন্যান্য জিনিসগুলো হালকা করে থাকতে হবে, যেন আপনি সকল ধরনের পুষ্টি শরীরে ভেতরে দিতে পারেন।
শেষ কথা
পরিশেষে একটি কথা স্মরণ রাখবেন আপনি যখন ইফতারের সময় হবে, তখন চেষ্টা করবেন সবসময় হালকা খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ পর আবার খাওয়া এবং একটু হাটাহাটি করে তারপর আবার ধীরে কিছু খাওয়া এবং আরো একবার দেড় ঘন্টা পর হালকা কিছু খাওয়া। এভাবে খেলে আপনার কোন ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়।


জিনেউস আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url