যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয়

যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয়? এ বিষয়টি সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই। আসলেই এটা ব্যবহার করা যাবে কি? সেই সাথে কিভাবে ব্যবহার করলে কেমন উপকার হবে! সে সম্পর্কে নিম্নে আমরা বিস্তারিত জানবো।

যোনিতে-নারিকেল-তেল-দিলে-কি-হয়মূলত আপনি যদি নিম্নের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ে থাকেন, তাহলে আসলে বুঝতে পারবেন যে আসলে এটা কতটুকু ব্যবহার করা যাবে, বা কোন ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ে কিভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয়

যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয়

যোনিতে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে সাধারণত বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে চুলকানি এমনকি শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। কারণ এর আদ্রতা প্রদানকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে এটি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ার ফলে কোন ধরনের খারাপ কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না। তবে এটি ব্যবহার আগে বেশ কিছু পরামর্শ এবং এ সম্পর্কে কিছু জানতে হবে।

এটি যোনির স্বাভাবিক অম্ল-ক্ষার (ph) ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। আবার এটি বেশকিছু ক্ষেত্রে ইস্ট সংক্রমণ বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া সমস্যা বাড়াতে পারে। এর মূল কারণ হচ্ছে এটি ক্ষারীয় প্রকৃতির। তাই ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ও শরীরের গতিবিধি বা শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এখানে যোনিতে তেল দেওয়া মানে যোনির ভেতরে নয়। অনেক সময় যোনির দুই ধারে চুলকায় যার ফলে অনেক অসস্থি লাগে। এমনটা হলে আপনি সামান্য নারিকেল তেল যোনির দুই ধারে আলতো করে মেসেজ করে দিতে পারেন, এমনটা করলে এ ধরণের সমস্যা দূর করা যায় বা আপনি সাময়িক আরাম বোধ পেতে পারেন।

আবার কারও কারও ক্ষেত্রে যোনির শুষ্কতা লক্ষ্য করা যায় বা আপনাদের কারো মধ্যে দেখবেন যে শুষ্কতার বিষয়টি দেখা যায়। তো সে ক্ষেত্রে আপনি সামান্য পরিমাণ (এক টেবিল চামচ) পরিমাণ তেল আপনি হাতে নিয়ে আলতো করে ঘষে মেসেজ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দেখা যাবে আপনার শুষ্কতা কম হয়ে গেছে মশ্চারাইজার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যোনিতে ইনফেকশন হলে করণীয় কি?

অনেক মহিলারাই আছেন যারা এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন অথচ কোন ধরনের ডাক্তারি সহজেই চিকিৎসা নেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে এটি একটি সেনসিটিভ বিষয় তাই অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন এ ধরনের সমস্যা এড়াতে আপনাকে নিজে সচেতন হতে হবে এবং বেশ কিছু কাজ করতে হবে।

এ বিষয়টি অনেক সেনসিটিভ একটি বিষয়। যেহেতু এটি একটি সেনসিটিভ বিষয় সেক্ষেত্রে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিলেই ভালো হবে। তবে অনেক সময় অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের সাহায্যে অধিকাংশ ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশনের চিকিৎসা হয়ে যায়। এটি কতটুকু সংক্রমণ তার ওপরে নির্ভর করে কি ওষুধ দেওয়া যাবে। খাওয়ার ওষুধ রয়েছে যেমনটা ফ্লুকোনাজল। 

আবার যোনিতে সরাসরি লাগানোর মতো ক্রিম রয়েছে। সাধারণত গোপনাঙ্গে ছত্রাকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম রয়েছে। যেমন- মাইকোনাজল, টারবিনাফাইন এবং ক্লোট্রিমাজল। এই ক্রিমগুলো সাধারণত ব্যবহার করা হয়।আরেকটি বিষয় হচ্ছে এ সময় আপনাকে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল খেতে হবে।

সেই সাথে সহবাসের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে কনডম ইউজ করে থাকেন তাহলে এটা পরিবর্তন করতে হবে। আবার মহিলা যদি খাবার ওষুধ খায় বা ইনজেকশন নেয় এ ধরনের পদ্ধতির থেকেও বিরতি নিতে হবে।কেননা এ সকল পদ্ধতির আপনারা যখন নেন তখন মহিলাদের ইনফেকশন আরো বাড়ে। তাই এ ধরনের পদ্ধতি এড়িয়ে চলতে হবে।

আপনি আজল পদ্ধতি এ সময় করতে পারেন। যেহেতু কনডম একটি রাবারের জিনিস সে কারণেই যোনির যখন ইনফেকশন হয় এটা ব্যবহারের ফলে ইনফেকশন বাড়তে পারে। আর খাবার ওষুধ ও ইঞ্জেকশন তো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে যোনির ইনফেকশন বাড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র আজল পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

নারিকেল তেল কি ভেতরে ব্যবহার করা যায়?

নারিকেল তেল কি ভেতরে ব্যবহার করা যায় এখানে কোন ভিতরের ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে? আসলে ভেতরে বলতে, যোনির ভেতরে কোন ধরনের নারিকেল তেল ব্যবহার করা যাবে না। এটি শুধুমাত্র বাহিক ব্যবহারের জন্য একটি তেল। আপনি বিভিন্ন জায়গায় এটা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন বা বিভিন্ন ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন তারা কখনোই এটা ভেতরে ব্যবহার করার উপদেশ আপনাকে দেবে না।

নারিকেল তেল শুধুমাত্র ব্যহিক ব্যবহারের জন্যই এটি উত্তম। নারিকেল তেল শুধুমাত্র বাহিরে ব্যবহার করলেই যে সব জায়গায় দিতে হবে এমনটা নয়। বেশ কিছু কিছু জায়গা রয়েছে যেগুলোতে এ ধরনের তেল ব্যবহার করলে আপনার সমস্যা হবে। যোনির যদি চুলকানির মত কোন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তার পাশে হয়, ভেতরে হয় না।

দুই পাশে তখন এই নারিকেল তেল দিলে অনেক সময় এ ধরনের চুলকানি থেকে আরাম পাওয়া যায়।  বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও নারিকেল তেল সেখানকার শুষ্কতা দূর করে। তাই আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যোনির ভেতরে অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যেগুলো ভালো ব্যাকটেরিয়া অনেক আবার রয়েছে ইস্ট এর মত কিছু খারাপ জিনিস যার ফলে এটা যখন ব্যবহার করে সেটা সমস্যা বাড়তে পারে ভেতরে দিলে।

আর যেহেতু ভিতরে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে সে তো এটা না দেয়াই ভালো। আপনার যদি ভেতরে চুলকায় ভেতরে জ্বালাপোড়া হয় অন্যান্য যে কোন সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রেও আপনি এর ভেতরে নারিকেল তেল না দিয়ে আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। আর যদি মনে করেন যে আমার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাহলে একটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

মহিলাদের গোপনাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয় এই আর্টিকেল থেকে চলুন জেনে নেই মহিলাদের গোপনাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহার করা যাবে কি? মহিলারা কোন সময়টাতে আসলে গোপনাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারবে, সে বিষয়টি একটি জানার বিষয়।
মহিলাদের-গোপনাঙ্গে-নারিকেল-তেল-ব্যবহার-করা-যাবে-কি_
আসলে যাদের বা কোন মহিলার যদি যোনির ভেতরে বা বাইরে কোন ধরনের সমস্যা না হয় বা সমস্যা না থাকে তাহলে যোনির লুব্রিকেন্ট হিসেবে এটা ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ একটু বিষয় হচ্ছে অনেকেরই ময়েশ্চারাইজার সমস্যা হয়ে থাকে আবার অনেকের যে পিচ্ছিলতা ভাব কম হয় বা থাকে না সে ক্ষেত্রে এটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন এটা ব্যবহার করলে আপনার পিচ্ছিলতা ভাব আসে এবং যৌন তৃপ্তি লাভ করতে পারেন।

২০১৪ সালের একটি বিশেষ গবেষণায় হতে বলা যায় যে, নারিকেল তেল মশ্চারাইজার হিসেবে নিরাপদ এবং কার্যকর বলে ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত। নারিকেল তেলে মশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটিকে একটি কার্যকর যোনি লুব্রিকেন্ট বলা হয়। ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে যোনিকে পিচ্ছিল করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারকোর্স সুযোগ করে দিতে পারে।

যোনিতে নারিকেল তেল দেওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা

যোনিতে নারিকেল তেল দিলে সম্ভাব্য বেশ কিছু উপকারিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অনেক মেয়েদের স্রাবের কারণে যোনির দুই ধার চুলকায়, এই চুলকানি রোধে নারিকেল তেল অনেক উপকারি একটি জিনিস।  

যোনিতে নারিকেল তেল দেওয়ার সম্ভাব্য বেশ কিছু উপকারিতা লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে যোনির শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। আরেকটি হচ্ছে হালকা চুলকানি বা জ্বালা ভাব থাকলে আরাম দিতে পারে। অন্য একটি বিষয় হচ্ছে এটি প্রাকৃতিক তেল হওয়ায় অনেকেই এটি ব্যবহার করতে পছন্দ করে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাচ্চা প্রসবের পর মেয়েদের যোনির পাশে ছিলে যায়,ফলে জ্বালা ভাব হয়। এ ধরণের সমস্যা প্রতিরোধে নারিকেল তেল জ্বালা স্থানে দিলে জ্বালাভাব অনেকটা কমে যায়। ছিলে যাওয়া স্থানে নিয়মিত এক সপ্তার মতো নারিকেল তেল দিলে সেই স্থানটি খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যায়।

এখানে যোনির শুষ্কতা বলতে, অনেকের যোনির পিচ্ছিলতা কম থাকে। এধরনের সমস্যা এড়াতে নারিকেল তেল ব্যবহারে অনেক উপকার করে। ইন্টারকোর্সের সময় নারিকেল তেল দিলে যোনির পিচ্ছিলতা বাড়ে ফলে যৌন তৃপ্তি লাভ করা হয়ে যায়। 

যোনিতে নারিকেল তেল ব্যবহারের ঝুঁকি ও সর্তকতা

যোনিতে নারকেল তেল ব্যবহারের বেশ কিছু ঝুঁকি ও সতর্কতা আমাদের জানা উচিত। আসলে কি ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বা কি ধরনের সতর্কতা রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। চলুন বিষয়টি এবার আমরা জেনে নেই।

নারকেল তেল উচ্চ (ph) যোনির স্বাভাবিক অম্লীয় পরিবেশকে পরিবর্তন করতে পারে। যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। যদি আপনার ইস্ট সংক্রমণের প্রবণতা থাকে তাহলে এটি পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। তাহলে বুঝতেই পারছেন এক্ষেত্রে আপনাকে নারিকেল তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আবার কিছু কিছু মানুষের ত্বকে বা শ্লেস্মা ঝিল্লিতে এটি এলার্জি প্রতিক্রিয়া করতে পারে। অর্থাৎ অনেকের ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় যে, নারিকেল তেলে তাদের এলার্জি হয়। সেক্ষেত্রে এ ধরনের মানুষ যদি এটা ব্যবহার করে থাকে তাহলে তার এলার্জি বা চুলকানি ভালো হবে না বরং আরো বাড়তে পারে।

যোনিতে নারিকেল তেল ব্যবহারের পরামর্শ

যোনিতে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি যদি থেকে থাকে তাহলে নারিকেল তেল ব্যবহার বন্ধ করা বা না দেওয়া ভালো। বেশ কিছু রোগ রয়েছে যেমন সিফিলিক্স, গনোরিয়া এ ধরনের সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে নারিকেল তেল নয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আপনি যোনিতে নারকেল তেল ব্যবহারের বেশকিছু পরামর্শ আমি নিজে থেকেই দিচ্ছি সেটা হচ্ছে যদি যোনিপথে কোন সমস্যা যেমন- চুলকানি, অস্বাভাবিক স্রাব বা গন্ধ থাকে তাহলে নারিকেল তেল ব্যবহার না করে অবশ্যই একজন সঠিক গাইনোকলজিস্ট এর সাথে পরামর্শ করুন।

আবার আমরা অনেকেই দেখি যে বিভিন্ন সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করি, ডুস ব্যবহার করি, রং ওলা টিস্যু ব্যবহার করি। এগুলো করলে অনেকেরই দেখা যায় যে দুপাশে চুলকানির সম্ভাবনা হয় বা বাড়ে। আবার কিছু কিছু ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল, ফেমিনিন হাইজেনিক স্প্রে ব্যবহারে এলার্জি হওয়ার কারণে চুলকানি হয়। তাই এগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

নারিকেল তেল কি গোপনাঙ্গের কালো দাগ দূর করতে পারে?

নারিকেল তেল বাস্তবে কতটুকু গোপনাঙ্গের কালো দাগ দূর করতে পারে সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। অনেকেই আমাদের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে থাকেন যে কয়েকদিনের ভিতরে এটা দিলে বা ব্যবহার করলে কালো দাগ দূর হয় এমন নানা কথা শোনা যায়। তো চলুন এ বিষয়ে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনে নেই।
নারিকেল-তেল-কি-গোপনাঙ্গের-কালো-দাগ-দূর-করতে-পারে_
নারিকেল তেল আর অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক মশ্চারাইজার প্রয়োগ করলে ত্বক প্রশমিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে কালো দাগের উপস্থিতি কমতে পারে। এটা একেবারেই যে কমে যাবে তা নয় বা উজ্জ্বল ধবধবে ফর্সা হবে তাও নয়, হয়তোবা অনেক কুচকুচে কালো দাগটি আস্তে আস্তে কমতে পারে।

তবে অন্তর্নিত অবস্থার চিকিৎসা যদি সংক্রমণ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কালো দাগের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে স্থায়ী উন্নতির জন্য মূল কারণটির সমাধান করা একটি অপরিহার্য বিষয়। কেননা উপযুক্ত কারণ চিহ্নিত করতে পারলে যে কোন চিকিৎসা বাজে কোন জিনিস ব্যবহারের সাজেস্ট করা যায়।

নারিকেল তেল কোথায় লাগানো উচিত নয়?

আমরা এতক্ষন উপরের বিষয়ে যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয় সে সম্পর্কে জানলাম। আর এখন আমরা জানব নারিকেল তেল কোথায় লাগানো উচিত নয়। এই তেল কোথায় লাগালে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেই।

নারিকেল তেল আমাদের মুখে বুকে ও পিঠে লাগানো উচিত নয়। যেহেতু নারিকেল তেল শরীরের ছিদ্র বন্ধ করতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনি যদি মুখে ব্যবহার করে থাকেন তাহলে মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। আবার আমরা পিঠে বা বুকে যদি এটা ব্যবহার করি তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

আমাদের যাদের মুখে তৈলাক্ত ভাব বেশি তাদের জন্য নারিকেল তেল মুখে লাগানো একদমই উচিত নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে এটি লোমকূপ বন্ধ করে এবং ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস বাড়াতে পারে। এটি আবার সংবেদনশীল ত্বকের জন্য জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। আবার আরেকটি বিষয় হচ্ছে এটি কোন কাটা বা ক্ষতস্থানে ব্যবহার করলে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

নারিকেল তেল কি ছত্রাকের চিকিৎসায় কাজ করে?

নারিকেল তেল কি ছত্রাকের চিকিৎসায় কাজ করে? এ বিষয়টি আমরা এখন জানব যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয় এই আর্টিকেল থেকে। নারিকেল তেল ছত্রাকের চিকিৎসায় কাজ করে থাকে কিভাবে কাজ করে থাকে সে সম্পর্কে নিম্নে জেনে নেই।

নারিকেল তেলে থাকে লরিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য ফ্যাটি অ্যাসিড যা ছত্রাকের কোষের ঝিল্লি ভেঙে দেয় এবং ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করে। এটি ক্যাণ্ডীডা এবং রিওওয়ার্ম সৃষ্টিকারী ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে। তবে গুরুতর কোন ছত্রাকের সংক্রমণ যদি হয়, তাহলে শক্তিশালী চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। যা শুধু একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পারবে। 

নারিকেল তেল ছত্রাকের ধ্বংসের যেভাবে কাজ করে থাকে তা হচ্ছে, এটি এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য তাই। আর এতে থাকা লরিক এসিড ছত্রাকের কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে। এটি ছত্রাককে মেরে ফেলে এবং ছত্রাকের ছড়ে পড়া থেকে প্রতিরোধ করে।

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল দিলে কি হয়?

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল দিলে কি হয়? চলুন এ বিষয়টি এখন যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয় এই আর্টিকেল থেকে জেনে নেই। পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল দিলে বেশ কিছু প্রভাব পুরুষাঙ্গে লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-
  • পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল দিলে লিঙ্গ মসৃণ হয়।
  • নারিকেল তেল দিলে লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
  • লিঙ্গে প্রদাহ কমায় এই নারিকেল তেল দিলে।
  • নারিকেল তেল সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
  • চুলকানি হ্রাস করতে সাহায্য করে।

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের উপকারিতা

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের উপকারিতা রয়েছে। এর বেশ কিছু উপকারিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপকারিতা গুলো বেশ লক্ষ্যণীয় বিষয়। তবে অবশ্যই একটি বিষয় মনে রাখতে হবে এটি শুধু সাধারণ ক্ষেত্রে, বিশেষ ক্ষেত্রে এর কোন তেমন উপকারিতা নেই বললেই চলে। চলুন জেনে নেই পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের কয়েকটি উপকারিতা।

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ ও নরম হয়। প্রাকৃতিক আদ্রতা বজায় রাখে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাবলী থাকার কারণে প্রদাহ কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। তবে ব্যবহার করার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আপনার এলার্জি টেস্ট করে নিতে হবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ঘর্ষণ এড়াতে অর্থাৎ লুব্রিক্যান্ট হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বেশ সতর্কতা প্রয়োজন। কেননা কনডম এর সাথে ইউজ করলে কনডম ছিড়ে যেতে পারে বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে আমরা যে নারিকেল তেলটি ব্যবহার করব সে নারকেল তেলটা অবশ্যই সুগন্ধি বিহীন ও প্রাকৃতিক হতে হবে।

পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের নিয়ম

যোনিতে নারিকেল তেল দিলে কি হয় আর্টিকেল থেকে এখন আমরা জানবো পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের নিয়ম। তো চলুন তাহলে পুরুষাঙ্গে নারিকেল তেল ব্যবহারের নিয়মগুলো নিম্নে জেনে নেই।

প্রথমে আপনার হাত ও পুরুষাঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপরে আলতোভাবে মেসেজ করতে হবে। কোন ধরনের চাপ বা ঘষাঘষি বেশি করা যাবে না। ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করতে হবে। কোন এলার্জি বা জ্বালাপোড়া হবে কিনা? জ্বালাপোড়া, সংক্রমণ ও অসস্তি লাগলে ব্যাবহার বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই বিশুদ্ধ ও সুগন্ধি-বিহীন নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে।

অল্প পরিমাণে তেল হাতে নিয়ে আলতো ভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। আপনি বৃত্তাকার গতিতে পুরুষাঙ্গ ও টেস্টিসের ওপর মালিশ করবেন। মালিশ করার পর ২৪ ঘণ্টা রেখে দিবেন। মালিশ করার সময় অতিরিক্ত চাপাচাপি করবেন না। কোনো লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। জরুরী প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শেষ কথা

পরিশেষে শুধু আপনাদেরকে একটি কথাই বলতে চাই, আমার একটাই কাম্য আপনারা সুস্বাস্থ্য থাকেন এবং সঠিকভাবে সঠিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেন। আমি যতটুকু পারি আপনাদের জন্য সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করি। ভবিষ্যতেও যেন এমন ধরনের ভালো ভালো কাজ করে এগিয়ে যেতে পারি সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন এবং পাশে থাকবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জিনেউস আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url