ঘন ঘন আঙুল মটকানোর অভ্যাস কি পড়তে পারে

ঘন ঘন আঙুল মটকানোর অভ্যাস কি পড়তে পারে এর বিস্তারিত প্রভাবসমূহ এবং কি কি ধরনের সমস্যা হতে পারে সে সম্পর্কে জানব আমরা এই আর্টিকেল থেকে। এর পাশাপাশি আমরা আরো জানতে পারবো আঙ্গুল মটকানোর অভ্যাসে ইসলাম কি বলে।

ঘন-ঘন-আঙুল-মটকানোর-অভ্যাস-কি-পড়তে-পারেঘন ঘন আঙুল-মটকানোর অভ্যাস সরাসরি বিভিন্ন ধরনের বাতের কারণ হতে পারে। আবার অনেক সময় দেখা যায় এটা টিস্যু বা লিগম্যান্ট এর ক্ষতি করতে পারে। আবার আমরা যদি এটা নিয়মিত বারবার করে থাকি তাহলে হাতে ধরা শক্তি কমে যায়। নিম্নে আমরা এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানব।

পেজ সূচিপত্রঃ ঘন ঘন আঙুল মটকানোর অভ্যাস কি পড়তে পারে

ঘন ঘন আঙুল মুটকানো অভ্যাস কি পড়তে পারে

ঘন ঘন আঙুল মুটকানো অভ্যাস কি পড়তে পারে চলুন এর বেশ কিছু তথ্য এখন আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা যাক। আমরা অনেকেই আছি এ ধরনের অভ্যাসের সাথে তবে এই অভ্যাসটি একদমই ভালো নয়। এর মূল কারণ হচ্ছে এতে করে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

ঘন ঘন আঙুল মটকালে আমাদের যে হাতের সংযোগস্থলে বা আমরা যেটাকে জয়েন্ট বলি সেখানে টিস্যু বা লিগমেন্টের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া এ অভ্যাসটি আমাদের গ্রিপের শক্তি বা ধরার যে শক্তি সেই শক্তিটা কমে যায়। আবার এই আঙুলের জয়েন্টে ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশ থাকে।

একটি গবেষণায় প্রমাণ মিলেনি যে আঙ্গুল ফোটানো সরাসরি আর্থাইটিস বা গেঁটে বাত তৈরি করে। তবে আমরা যদি বেশি জোরে বা নিয়মিত এই অভ্যাসটি করতে থাকি, তাহলে জয়েন্টে ভুলে যাওয়া এবং কোন কিছু শক্ত করে ধরে রাখার শক্তি কম হতে পারে। আবার অনেকক্ষেত্রে নরম টিস্যু বা লিগামেন্টের ওপর চাপ পড়ে এক্ষেত্রে অনেকের হাতে ব্যথা হতে পারে।

আঙুল মটকালে কি হয়

আঙুল মটকালে কি হয় অনেকেই হয়তো আমরা এ বিষয়টি এড়িয়ে চলি। তবে বিষয়টা আমাদের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের বাজে অভ্যাসের কারণে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই চলুন নিম্নে জেনে নেই আঙ্গুল মটকালে কি হয়?

আঙুল মটকালে সাধারনত আমাদের যেটা হয় সেটা হচ্ছে আমাদের যে জয়েন্ট রয়েছে, সেই জয়েন্ট এর ভেতরে থাকা গ্যাস বুদবুদ ফেটে যাওয়ার কারণে কট করে শব্দ হয়। আসলে আমাদের আঙ্গুলের জয়েন্টের ভিতরে এক ধরনের তরল থাকে একে আমরা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বলি। এ তরলের মধ্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদি গ্যাস থাকে।

যখন আঙ্গুল টেনে বা ঝাঁকিয়ে মটকানো হয় তখন জয়েন্টে চাপ কমে যায় এর ফলে ছোট গ্যাস বুদবুদ তৈরি হয় হঠাৎ ফেটে যায়, তখনই কট করে শব্দ হয়। তবে অতিরিক্ত ফোটালে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। যেমন জয়েন্টে ফোলা ভাব হতে পারে, জয়েন্ট ঢিলা লাগা হতে পারে, কোন কিছু ধরার শক্তি কমে যেতে পারে।

তবে মাঝে মাঝে করলে সাধারণত কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু যদি এটা আপনি অভ্যাসে পরিণত করেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে একটি গবেষণায় আঙুল মটকালে সরাসরি যে গাঁটে বাত হয় এর কোন প্রমাণ মিলেনি।

ঘন ঘন আঙুল-মটকানোর প্রভাব সমূহ

ঘন ঘন আঙুল-মটকানোর প্রভাব সমূহ আপনি জানলে অবাক হবেন। এর বেশ কিছু প্রভাব রয়েছে যা ভবিষ্যতে আমাদের ক্ষতি করতে পারে। নিম্নে বেশ কয়েকটি প্রভাব সমূহ আলোচনা করা হলো-
ঘন-ঘন-আঙুল-মটকানোর-প্রভাব-সমূহ
  • প্রথমতঃ বারবার আপনার আঙুল-মটকানোর ফলে আঙ্গুলের সংযোগস্থলের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • দ্বিতীয়তঃ এটা যদি বেশিরভাগ সময় করা হয় তাহলে হাতের গ্রিপ নষ্ট হবে অর্থাৎ আপনি কোন কিছু হাতে ধরার জন্য বা উপরে তোলার জন্য শক্তি কম পাবেন।
  • তৃতীয়তঃ নিয়মিত এই বদ অভ্যাসের ফলে আঙ্গুলের যে সন্ধি সেটা ফুলে যেতে পারে।
  • চতুর্থঃ আপনার আঙুলের আশেপাশের থাকা বিভিন্ন স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন উপরে বর্ণিত এ সকল সমস্যা যদি হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

হাতের আঙ্গুল ফোটালে কি ক্ষতি হয়

হাতের আঙ্গুল ফোটালে কি ক্ষতি হয় অনেকের এই নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মনে প্রশ্ন থাকে? আসলে হাতের আঙ্গুল ফোটানো যাকে আমরা আঙুলের শব্দ করা বলি সেটা নিয়ে অনেকে ভয় করে বা ভয় থেকে থাকে। যদিও আমরা সাধারণত এটা জানি যে ক্ষতিকর নয়, তবে এ বিষয়ে সম্পর্কে জানা আমাদের প্রয়োজন।

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি আঙ্গুলের জয়েন্ট এর ভেতরে একটি তরল পদার্থ থাকে যার কারণে যখন আমরা আঙ্গুল টানি বা বাকায় তখন শব্দ হয়, ভেতরে থাকা গ্যাসের জন্য। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নিয়মিত আঙুল মটকালে আর্থ্রাইটিস হয় না।

সাধারণত আমরা যদি এক সপ্তাহ পর অথবা তিন দিন পর, ১৫ দিন পর এভাবে আঙ্গুল মটকায় তাহলে কোন ধরনের সমস্যার ঝুঁকি থাকে না। তবে যদি এটা আমাদের বদ অভ্যাসে পরিণত হয় নিয়মিত করি এবং কিছুক্ষণ পরপর করি তাহলে আমাদের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে। যা এর আগে আমি উপরে বর্ণনা করেছি। তো যাদের এমন ধরনের সমস্যা দেখা দেবে তারা অবশ্যই একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার এর পরামর্শ নেবেন।

আঙ্গুল ফোটানো সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

আঙ্গুল ফোটানো সম্পর্কে ইসলাম কি বলে চলুন এবার এ বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নেই আসলে আঙ্গুল ফোটানো সম্পর্কে ইসলাম কি বলে সে সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেক মুসলমানদের জানা প্রয়োজন আঙ্গুল ফোটানো সম্পর্কে ইসলামে কোন কঠোর নিষেধাজ্ঞানী তবে বেশ কিছু এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায়।
আঙ্গুল-ফোটানো-সম্পর্কে-ইসলাম-কি-বলে
যেমন রাসূল সাল্লামের একটি হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে ক্ষতি করা যাবে না আর ক্ষতির প্রতিদানও ক্ষতি দেওয়া যাবে না অর্থাৎ এই হাদিস দ্বারা প্রতি প্রমাণ হয় যে যদি আঙ্গুল ফোটানো শরীরের ক্ষতি করে বা ব্যাথা সৃষ্টি করে তাহলে তা এড়িয়ে চলায় উত্তম

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ইসলাম যেহেতু শালীনতা ও পরিপাটকে বেশি গুরুত্ব দেয় সেও তো ইবাদত বন্দেগী করার সময় এই অসাবরণ আচরণ পরিহার করা উত্তম কারণ আপনি যদি ইবাদত বন্দেগীর সময় আঙ্গন তাহলে অন্যের সমস্যা হতে পারে এবাদত বন্দেগী করতে

আঙ্গুল ফোটানো ইসলামে কি নিষেধ

আঙ্গুল ফোটানো ইসলামে কি নিষেধ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে ও বুঝতে হলে বেশ কয়েকটি হাদিস আপনাদেরকে জানতে হবে। বেশ কয়েকটি হাদিস আলোচনা করার পর আপনি নিজে থেকেই জানতে পারবেন আসলেই আঙ্গুল ফুটানো সম্পর্কে ইসলামের কি কি বিধি নিষেধ রয়েছে।

কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে এর মধ্যে বেশ কিছু আলেম রয়েছে যাদের মধ্যে এই হাদিসের সনদ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। রাসুল সাঃ এর একটি হাদিস শরীফে এসেছে, "তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার আঙ্গুলগুলো পরস্পর জড়ায় না, কারণ সে তখন নামাজের মধ্যেই থাকে।" হাদীসটি সূত্র হচ্ছে সুনানে আবু দাউদ(৫৬২) ও জামি আত-তিরমিজি(৩৮৬)

আরেকটি হাদিস শরীফে এভাবে এসেছে, "নামাজের মধ্যে আঙ্গুল ফোটানো বা আঙুল জড়ানো নেই।" এর সূত্রটি হল মুসনাদে আহমেদ(১৫৬০৪) উল্লেখ্য রয়েছে। এই হাদীসটি কিছু মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফের ভেতর সূরা আল-মুমিনুন আয়াত ১ থেকে ২ এর ভিতর রয়েছে, "নিশ্চয় সফল মুমিনরা যারা তাদের নামাজে খুশু অবলম্বন করে।" অর্থাৎ এখানে নামাজের মনোযোগ ও স্থিরতা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। শব্দ বা নড়াচড়া নামাজ নষ্ট করতে পারে।

অধিকাংশ আলেমদের মতে নামাজে আঙ্গুল মটকানো বা ফোটানো মাকরু বা অপছন্দনীয়। হারাম বলা হয়নি। তবে খুশু ও আদবের জন্য পরিহার করা উত্তম। তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন বা লক্ষ্য রাখবেন হাদিসের যে নম্বরটি সে নম্বরটি প্রকাশনা ও তাহকিক বা সম্পাদনা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

শেষ মন্তব্য

পরিশেষে আমরা জানতে পারলাম যে, ঘন ঘন আমরা যে আঙ্গুল মটকায় এতে করে আমাদের বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে এর পাশাপাশি আমরা যদি নামাজের ভেতর বা বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগীর ভেতর করে থাকি তাহলে আমাদের ইবাদত বন্দেগীর ক্ষতি হতে পারে। তাই আমাদের উচিত এ ধরনের বদঅভ্যাস এড়িয়ে চলা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জিনেউস আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url